তনি'র স্বামী সাদাত ফু-ওয়াং সিরামিক ছাড়াও জিএমজি এয়ারলাইন্সে চাকরী করতেন; বেতন ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার
আপডেট সময় :
২০২৫-১১-০৫ ১৬:৪১:০৩
তনি'র স্বামী সাদাত ফু-ওয়াং সিরামিক ছাড়াও জিএমজি এয়ারলাইন্সে চাকরী করতেন; বেতন ছিল ৫ লাখ ৪০ হাজার
আকাশ নিবির:
সম্প্রতি বিয়ে করে আলোচনায় দেশের বহুল আলোচিত-সমালোচিত নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার রোবাইয়াত ফাতিমা তনি। দৈনিক বাংলার আলো নিউজ অনলাইনে একটি বিশ্বস্তসূত্রের খবরে সাবেক স্বামী শাহাদাত রহমান স্বামী সচিব ছিলেন এমন খবর প্রচার হলে বেশ নড়েচড়ে বসেন তনি। তিনি বলেন, ওসব ভুল নিউজ। আসল তথ্য আমার থেকে জানেন। আমার সাবেক স্বামী সাদাত রহমান মোটেও সচিব ছিলেন না। তিনি ছিলেন একটি স্বনামধন্য সিরামিক কোম্পানীর এমডি। তার বেতন ছিল ৩ লক্ষ টাকা। তার টাকা নিয়ে আমি চলতাম না।
কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তনি ভুল মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। আমাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সাদাত রহমান ছিলেন কোম্পানীর বোর্ড অব ডিরেক্টর নমিনি ফু-ওয়াং সিরামিক। তিনি এমবি করেছেন সিটি কলেজ, ইউকে, তার ক্যারিয়ার ১৯৯৭-২০০০, সিওও সামাহ রাজর ইন্ডাস্ট্রিজ ব্লাডাস লিমিটেড। তিনি ২০০১ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ছিলেন ভিপি মার্কেটিং/পিআর অব জিএমজি এয়ারলাইন্স। এছাড়াও ফু-ওয়াং সিরামিক ২০২২-২৩ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে, তিনি মনোনয়ন ও পারিশ্রমিক কমিটির সদস্য ছিলেন। যার বেতন ছিল ৫ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা।
তনির এমন কথায়, অনেকের মনে আরও সন্দেহের বাসা বাধেঁ। কিছু সূত্র বলছে, তনির কিছু নাই। সাদাত রহমান গরীব থাকা সত্ত্বেও তাকে ভালবেসে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি বিয়ে করেছেন এটা সত্যি হাস্যকর। সে যতোবার বিদেশে ট্যুর দিয়েছেন। তাহলে এরকম শাহাদাত রহমান প্রতিদিন তনি বিয়ে করতে পারবেন। নাটক করছেন তনি। কারণ তিনি দেশের বাইরে পালানো চেষ্টা করছেন। আগে যে পোশাক বিক্রি করতো ১৫০০ টাকায় সেটা এখন ডেকে বিক্রি করছেন ৫০০ টাকায়। কিছু একটা ঘাপলা আছে। নতুবা ব্যাংকের কাছে দেউলিয়া জেসে দেশের বাইরে পালানো চেষ্টা চালাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এর আগেও মানি লন্ডারিং এর মাধ্যমে দেশের বাইরে কালো টাকা পাচারেরর কথা উঠেছে। এছাড়াও দেশসেরা নায়ক শাকিব খানকে ১২ লক্ষ টাকায় দেশের বাইরে শো করার কথাও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। তনি অবশ্যই কোননা কোন স্মাগলিং কিংবা আদম পাচারের সাথে জড়িত আছে।
সূত্রটি আরও বলেন, কিশোরগঞ্জ অষ্টগ্রাম খুব গরীব ঘর থেকে উঠে আসা একটা মেয়ে কিভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজড়ে আসা উচিত। তনি'র সাবেক স্বামী শাহাদাত রহমান যদি গরীব হয় তাহলে আমাদের অনুসন্ধান সত্যি হতে চলেছে। সাবেক রাষ্ট্রপতির ছোট ছেলে তুহিনের এসব কালো টাকা? এমন কথার ভিত্তিতে তনি'র চোখে মুখে টেনশন আর ফেসবুকের প্রায় ২ ঘন্টার থতোমতো লাইভে একাধিক সিনিয়র ক্রাইম সাংবাদিক বিষয়টি নজড়ে নিয়ে বলেছেন "এই মেয়ের মধ্যে ঘাপলা আছে"। তার বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে তাগিদ দিয়েছেন।
অন্যদিকে মৌ সুলতানা নামে একজন বলেন, আমি নিজেও একজন নারী উদ্যোক্তা। রোবাইয়াত ফাতিমা তনি তিনিও একজন জনপ্রিয় নারী উদ্যোক্তা ও ইনফ্লুয়েন্সার। তাকে দেখে মূলত নিজেকে একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু পরে তা পারিনি। সে পারছেন আমরা কেন পারছি না। তখন নিজে নিজে এক ধরণের অনুসন্ধানে নামি। পরে দেখি ভয়াভয় অবস্থা। তনি বেঁদে পরিবার থেকে উঠে এসেছে। গেল ৭ মাস আগেই তারা বিয়ে করেছে। অন্যদিকে শাহাদাৎ হোসেন স্বামী থাকা অবস্থায় সিদ্দিকের সাথে দুবাইয়ে যাওয়ার কথা বললে স্বামীর ধরা খাওয়ার ভয়ে এবং মিথ্যা ব্যবসার কথা বলে ব্যাংকক যাওয়া কথার কিছু স্ক্রীণশর্ট দৈনিক বাংলার আলো নিউজের হাতে এসেছে। কিন্তু সূত্রটি ইনবক্সের কিছু তথ্য প্রকাশ করায় তাকে মামলার ভয় দেখিয়ে পোস্ট ডিলিট করতে বলে এবং ২০ লক্ষ টাকা দেবার কথা শোনা যায় এবং একের এক পোস্ট দেয়াতে তনি বেশ তরিঘড়ি করে বিয়ের বিষয়টি সামনে নিয়ের আসার চেষ্টা করে। তবে তিনি পোস্ট ডিলিট না করায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে তার ফেসবুক পেজে কপিরাইট মেরে পোস্ট ডিলিট করেন।
মৌ আরও বলেন, কিন্তু তাতে তিনি থেমে থাকেননি বরং বেজায় চটেছেন তনি এবং সিদ্দিককে নিজের ছবির পোস্ট থেকে ট্যাগ রিমুভ করে দিয়েছেন। এবং ফোনে তাদের মধ্যে অনেক কথা কাটাকাটিও হয়েছে। কিন্তু তার স্বামী সিদ্দিক তাকে না জানিয়েই নিজের ফেসবুকে তনিকে ট্যাগ করে এবং বউ বলে সম্মোধন করেন। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত জানা যায় এ সংসারেরও শিঘ্রই ইতি টানতে পারেন রোবাইয়াত ফাতিমা তনি।
মৌ সুলতানা এছাড়াও বলেন, ইতিমধ্যে রাসেলের বোনের সাথে একটা ছবি ভাইরাল হয়েছে। সেটি ছিল অবশ্য ২০১৯ সালে। তার মানে তাদের প্রেম ২০১৯ সাল থেকে। আমেরিকান অনলাইনে তাদের বিয়ের বিষয়ে আমার কাছে অনেক গোপন তথ্য আছে। এখন বলছে ৭ মাস আগে বিয়ে করেছে। তাহলে আগে কেন স্বীকার করলো না বিয়ের কথা। বরং আমাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভিন্ন রকমের হুমকি দিয়েছেন এবং আমাকে মেরে ফেলার কথা বলছেন। বিয়ে করলে আগেই স্বীকার করতেন। এখন এতো কথা কেন? আমরা কি ঢাকা শহরে ভেসে আসছি। তিনি কথায় কথায় মানুষকে মামলার ভয় দেখায়। ভয় কারা দেখায়? যারা ভয় পায় তারা ভয় দেখায়। প্রশাসন চাইলে অনেক কিছু আমি শেয়ার করবো। সবে ২০% দেখিয়েছি আরও ৮০% বাকী আমার কাছে আছে।
তনি'র কালো টাকা নিয়ে মৌ জানায়, এগুলো টাকা সাবেক রাষ্ট্রপতির ছোট ছেলে সাথে পরকীয়া থাকা অবস্থায়। এগুলো শো-রুম হলো মানুষকে লোক দেখানো মাত্র। আর আমার জানা মতে তনির সাবেক স্বামী সরকারী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন স্বামী ছিলেন একজন সরকারী সাবেক সচিব। তুহিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে হয়তোগাড়ী বাড়ী আর বিলাসী জীবন যাপন করে তনি মূলত আওয়ামী সরকারের দোসরদের সাথে হাত মিলিয়ে কালো টাকার পাহাড় গড়ে তোলেন। তার মূল কাজ ছিল বিভিন্ন বয়সের নারী দিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করতেন। এসব কালো টাকা সাদা করতেই লন্ডন প্রবাসী আরেক প্রতারক মোঃ সিদ্দিক ওরফে রাসেলের সঙ্গে গোপনে বিয়ে করেন।
অন্যদিকে রোবাইয়াত ফাতিমা তনি'র তৃতীয় স্বামীর নাম মো. সিদ্দিকের আরেকটি খবর চাউর হয়, একজন ব্যবসায়ীর ইমেল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড চুরি করার চেষ্টা করা গ্যাং সদস্যদের মোট ১৯ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পপলারের অ্যাবারফেল্ডি স্ট্রিটের ৫১ বছর বয়সী ফয়জুল ইসলাম; দাগেনহ্যামের চ্যান্সেলর ওয়েয়ের ৩২ বছর বয়সী মোহাম্মদ সিদ্দিক; পূর্ব হ্যামের হকলি অ্যাভিনিউয়ের মোহাম্মদ রফিক, ৩৪ বছর বয়সী এবং মেহরুফ মুত্তিয়ান, ৩৫ বছর বয়সী উভয়কেই গত মাসে সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে অর্থ পাচারের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Banglar Alo News Admin
কমেন্ট বক্স